সোমবার, মার্চ ৪, ২০২৪ || ১:৪২:০৪ পূর্বাহ্ণ

সাভারে অধিকাংশ হোটেলে খোলা এবং নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে খাবার

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকার সাভারে অধিকাংশ খাবার হোটেলে খোলা এবং নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে সব প্রকার খাবার। এছাড়া খোলা জায়গায় ধুলাবালিতে রাখা হচ্ছে পরোটা, কাবাব, চিকেনচাপসহ বিভিন্ন প্রকার খাদ্য সমগ্রী।

সাভারের গুরুত্বপূর্ণস্থানে বেশিরভাগ খাবার হোটেল বা রেস্টুরেন্টগুলোর বাইরের দৃশ্য চকচকে থাকলেও খাবার তৈরির জায়গা দেখলে সচেতন মানুষ আঁতকে উঠবেন। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে চাকচিক্য পরিবেশে।

এদিকে ছোট হোটেলগুলোর চেয়ে অনিয়ম চলছে চাইনিজ রেস্টুরেন্টেও। চাইনিজ রেস্টুরেন্টগুলো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হলেও ভেতরে রান্না ঘরের অবস্থা খুবই অস্বাস্থ্যকর। এছাড়া খাবারে মেশানো হয় মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক নানা রাসায়নিক। খাবারের মান ও পরিবেশ নিশ্চিতকরণে ছোট ছোট হোটেলগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হলেও বড় হোটেলগুলো এর আওতায় আসছে না বলে অভিযোগ সচেতন মহলের।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মাহফুজের নেতৃত্বে এরআগেও সাভারের মোল্লা হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট, নীহারিকা হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট, সততা রেস্টুরেন্ট, বাংলার স্বাদসহ বেশ কয়েটি রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে জরিমানার পর তাদের সর্তক করে দিলেও কোন কর্ণপাত করেনি হোটেল কর্তৃপক্ষ।

সাভারের অধিকাংশ হোটেল রেস্তোরাঁয় খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন অনেকেরই। বিভিন্ন হোটেল রেস্টুরেন্টে সরেজমিন দেখা গেছে নোংরা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, বাবুর্চি ও রান্নার কাজে সহযোগীদের গা থেকে ঘাম ঝরে পড়ছে খাবারে, কাটাকুটি চলছে স্যাঁতসেঁতে মেঝেতে।

জানাযায়, সাভারে নামিদামি অসংখ্য খাবার হোটেল গড়ে উঠেছে। এসব হোটেলের মধ্যে গুটি কয়েক ছাড়া বাকিগুলোর রানাঘরের অবস্থা দুর্গন্ধযুক্ত, নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর। রান্না করার অংশে সাধারণত গ্রাহকদের প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। হোটেলের সামনের সাজসজ্জা করা অংশে খাবার খেয়ে বিল পরিশোধ করে বেরিয়ে পড়েন গ্রাহকরা। কিন্তু কোনো গ্রাহক যদি এসব হোটেলের রান্নাঘরের পরিবেশ দেখতেন তাহলে কেউই খাবার মুখে তুলতেন না। অথচ এ ধরনের হোটেল মালিকরা ভোক্তাদের একদিকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করছেন, অন্যদিকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি খাবার দিয়ে তাদেরকে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলছেন।

সাভার বাসস্ট্যান্ডের মোল্লা হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টের পরিচালক আমির বাবু অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরীর কথা অকোপটে স্বীকার করে বলেন, হোটেলের সামনে খোলামেলা ভাবে চিকেনচাপ, মুগলাই তৈরী করে খোলা না রাখলে ডিসপ্লে আসেনা। তবে ধুলোবালি, আশপাশের দোকানের ময়লা পানি ছিটে যেতে পারে বলে তিনি স্বীকার করেন।

খাসির বিড়িয়ানিতে ভেড়ার মাংস দেয়ার বিষয়ে আমির বাবু বলেন, আমরা মাংস কিনেআনি। ভেড়া না খাসি তা বলতে পারবো না। তবে অনেক হোটেলেই খাসির মাংস বলে ভেড়ার মাংস দিয়ে থাকে।

সরেজমিনে সাভারের বাসস্ট্যান্ড, থনারোড, বাজার রোড, উলাইল, হেমায়েতপুর, আশুলিয়ার জামগড়া, আশুলিয়া বাজার এলাকার বেশকিছু খাবার হোটেল ঘুরে দেখা গেছে রান্নাঘর ও সামনের পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন তবে বেশিরভাগ খাবার হোটেল মালিক পরিবেশনের জায়গা পরিচ্ছন্ন রাখলেও রান্নাঘরের অবস্থার দিকে নজর দেন না। রান্নাঘরের পরিবেশ নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর। আবার অনেকে হোটেলের সামনের জায়গায় চুলো বসিয়ে সকাল সন্ধ্যায় পরোটা-বিকালে পুড়ি, কাবাব, চিকেনচাপ তৈরি করছে। এসব খাবার রাখা হচ্ছে খোলা। তাতে পড়ছে ধুলাবালি আর ভন ভন করছে মাছি। কড়াইগুলোতে পুরনো তেলেই চলছে ভাজাপোড়ার কাজ।

এসব বিষয়ে একাধিক হোটেলে দায়িত্বরত কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলেও কেউ মুখ খোলেননি।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, অধিকাংশ হোটেলের ফুড প্রসেসিং লাইসেন্স নেই। পৌরসভা কিংবা ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেডলাইসেন্স দিয়েই হোটেল পরিচালনা করছে। আবার হোটেলগুলোতে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি।

খবরটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *