সোমবার, মার্চ ৪, ২০২৪ || ১:৪৩:৪৪ পূর্বাহ্ণ

মামলার দাবিতে লাশ নিয়ে থানায় পরিবার, পুলিশের অসদাচরনের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার : সাভারের আশুলিয়ায় কলেজ পড়ুয়া এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে হত্যা মামলার দাবিতে থানায় লাশ নিয়ে হাজির হয়েছেন তার পরিবার। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ মামলা না নিয়ে নানা গড়িমসি করছে। এমনকি তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার সামনে তাদের অনেকের সাথেই অসদাচরণ করেছেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আশুলিয়া থানার সামনে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত রিয়া আক্তার (২০) আশুলিয়ার গাজীরচট এলাকার মনির হোসেনের মেয়ে। সে সাভার লিজেন্ড কলেজের এইচএসসি পরিক্ষার্থী।

নিহতের বোন কেয়া আক্তার বলেন, গতকাল (সোমবার) আমার বোনকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে গেছে কাউছার নামের একটা ছেলে। কাউছার আমার বোনের সাথেই লিজেন্ড কলেজে পড়াশুনা করে। সম্ভবত ওই ছেলের সাথে আমার বোনের সম্পর্ক ছিলো। পরে আমাদের ফোন করে রিয়া এনামে আছে বলে জানায় কাউছারের লোকজন। ওরা আমার বোনকে মেঝেতে ফেলে রেখেই পালিয়ে যায়। পরে চিকিৎসক গতকাল বিকেলে রিয়া মারা গেছে বলে আমাদের জানায়। এরপর থেকেই আমরা এসআই নূর খানের সাথে যোগাযোগ করছি হত্যা মামলা নেয়ার জন্য৷ কিন্তু উনি মামলা না নিয়ে গতকাল থেকেই আমাদের ঘুরাচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ কালেক্ট করব, তদন্ত করছি এসব বলে গড়িমসি করছে। উপায় না পেয়ে আজ লাশ নিয়েই থানায় এসেছি।

লাশ বহনকারী মাইক্রোবাসের চালক মাহফুজ হাসান বলেন, আমি থানার সামনে লাশের গাড়ি নিয়ে দাড়ায় ছিলাম। হঠাৎ এসআই নূর খান এসে আমার সাথে খারাপ আচরণ করে লাশ নিয়ে দ্রুত চলে যেতে বলে। একজন পুলিশের কাছে এরকম আচরণ আশা করিনি। আমিতো লাশ নিয়ে এসেছি। এখান আমার কি দোষ?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিহতের এক স্বজন অভিযোগ করে বলেন, আমরা থানা লাশ নিয়ে আসছি শুনে এসআই নূর খান সন্ধ্যায় সেখানে আসেন। এরপর আমাদের অ্যাম্বুলেন্সের চালকের সাথে দুর্ব্যবহার করে লাশ নিয়ে যেতে বলেন। আমাদের সাথে খারাপ আচরণ করেন বলেন লাশ নিয়ে থানায় আসার বুদ্ধি আমাদের কে দিয়েছে সে বিষয়েও রাগান্বিত ভাবে জানতে চান।

আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নূর মোহাম্মদ খান সাংবাদিকদের বলেন, চারতলা ভবনের ছাদ থেকে ওই মেয়েটা পড়ে মারা গেছে। আমি তদন্ত করছি। সিসিটিভি ফুটেজ নিয়া আসছি। সাংবাদিকরা ১৪ বছরেও পারব এটা কালেক্ট করতে। আমি সাংবাদিকতায় পিএইচডি করছি। আমিতো সাংবাদিকগো তথ্য দেই না। এটাতো মামলা হবে গতকালই সিদ্ধান্ত হইছে।

আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম কামরুজ্জামান বলেন, এঘটনায়তো মামলা হচ্ছে। আপনাদের সাথে অসদাচরণের বিষয়টা আমি দেখছি।

খবরটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *