সোমবার, মার্চ ৪, ২০২৪ || ২:০৭:৪৬ পূর্বাহ্ণ

বিজয় উদযাপনে প্রস্তুত সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ

স্টাফ রিপোর্টার : বিজয়ের ৫২তম বার্ষিকীতে স্বাধীনতা সংগ্রামে অকুতোভয় বীর শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে সমগ্রজাতি। সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে দিবসের প্রথম প্রহরেই শ্রদ্ধা জানাবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। এরপরই সৌধ বেদিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করবেন দেশী-বিদেশী কূটনীতিক, বীরশ্রেষ্ট পরিবার, তিন বাহিনীর প্রধানগণ ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ লাখো জনতা।

আর এই বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিচ্ছিন্দ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য্যবর্ধনের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। সৌধ স্তম্ভের উঁচু চূড়া থেকে শুরু করে শহীদ বেদি ও পায়ে চলার পথসহ পুরো এলাকা ধুয়েমুছে করা হয়েছে চকচকে। সৌধ ফটক থেকে বেদি পর্যন্ত পায়ে হাঁটা পথের লাল ইট গুলো সাদা রংয়ের ছোঁয়া ছড়াচ্ছে শুভ্রতা। বিভিন্ন স্থানে শোভা পাচ্ছে লাল, নীল, বেগুনি, হলুদ ও সাদাসহ বিভিন্ন বর্ণের ফুল গাছের চারা। ছেঁটে সৌন্দর্য্যমেণ্ডিত করে তোলা হয়েছে সৌধ এলাকার শোভাবর্ধনকারী গাছ। আর সৌধের কৃতিম হ্রদ গুলোতে ফুটে থাকা লাল শাপলা যেন জানান দিচ্ছে অকুতোভয় অর্জনের।

স্মৃতিসৌধের ভিতর ও বাইরের অংশের সীমানা প্রাচীর ও ফটকসহ বিভিন্ন স্থানে শোভা পাচ্ছে লাল, নীল, সবুজ বাতির বর্ণিল আলোকসজ্জার।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের জন্য প্রস্তুতি শেষে হয়েছে তিন বাহিনীর সুসজ্জিত দলের মহড়া।

জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকার নিরাপত্তা বেষ্টনী পরিদর্শনে এসে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, এবার মহান বিজয় দিবসকে ঘিরে তিন স্তরের নিরাপত্তার চাদরে স্মৃতিসৌধের পুরো এলাকা ঢাকা থাকবে। ইতিমধ্যে আমরা সর্বসাধারণের প্রবেশ বন্ধ রেখেছি।
আশপাশের এলাকায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে আমরা কথা বলেছি। আমরা তাদেরকে বলে রেখেছি বহিরাগত যদি কেউ আপনাদের এলাকায় অবস্থান করে আমাদেরকে অবহিত করার জন্য। সেই সাথে আমরা গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখছি। সেদিন যেহেতু প্রথম প্রহরে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আসবেন। সেহেতু তাদের নিরাপত্তার জন্য ভোর ৪টার থেকে এই এলাকার ট্রাফিক ব্যবস্থা পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছি। যেহেতু এখানে সর্বসাধারণ আসবেন, ব্যাপক জমায়েত থাকবে সে কারণে আমরা উত্তরবঙ্গ থেকে যে গাড়ীগুলো আসে তাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে তারা যেন চন্দ্রা-গাজীপুর হয়ে ঢাকায় প্রবেশ করেন এবং যারা মানিকগঞ্জ থেকে আসবে তাদের প্রতিও আমাদের অনুরোধ থাকবে তারা যেন নবীনগর মোড় হয়ে আশুলিয়া হয়ে ঢাকায় প্রবেশ করেন এবং ঢাকা থেকে যারা মানিকগঞ্জ এবং উত্তরবঙ্গ যাবেন তারা যেন গাবতলী-বেড়িবাঁধ হয়ে অথবা উত্তরা-আশুলিয়া হয়ে চলে যান।

তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন জায়গায় ওয়াচ-টাওয়ার বসানো হয়েছে। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করছে। আমিনবাজার থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এদিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত মহাসড়ক সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। দুইপাশে নেতা-কর্মীদের ছবি সম্বলিত নানান ব্যানার ফেস্টুনও শোভা পাচ্ছে।

সাভার গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, সৌধ চত্বর এলাকা জুড়ে ধোঁয়ামোছা ও অন্যান্য সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও দেশী-বিদেশী কূটনীতিকদের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের পর তা সর্বসাধারনের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

খবরটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *