সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৪ || ৭:২৭:১৫ অপরাহ্ণ

সাভারে আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ সাত জনকে তলব

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকার সাভারে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী, স্বতন্ত্র প্রার্থী, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরষদের চেয়ারম্যানসহ সাত জনকে তলব করেছে নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি।
সোমবার সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ফেরদৌস ওয়াহিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
রোববার ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনের নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান ও সিনিয়র সহকারী জজ জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথকভাবে এসকল নোটিশ দেয়া হয়েছে।
কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রাপ্তরা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সাভার উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াসমিন চৌধুরি সুমি ও পাথালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পারভেজ দেওয়ান। এছাড়া অন্যান্যরা হলেন আওয়ামীলীগ প্রার্থীর কর্মী মো. রকি, মো. সাইদ ও মো. টিপু।
নৌকার প্রার্থী এনামুর রহমানকে দেয়া কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়, গত বুধবার রাতে সাভারের থানা স্ট্যান্ড এলাকায় এনামুর রহমানের উপস্থিতিতে তাঁর কর্মী ও সমর্থকরা স্বতন্ত্র প্রার্থী ট্রাক প্রতীকের পোষ্টার ছিড়ে ফেলেন। এসময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী ও সমর্থকদের মারধর করে তাড়িয়ে দেয় এবং বিভিন্ন ধরণের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এটি আচরণ বিধিমালা ২০০৮ এর ৬ (ক) ও ৭ (২) বিধির লঙ্ঘন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে দেয়া নোটিশে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার নির্বাচনী প্রচারণায় পাথালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিন্দুরিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মাদ্রাসা ও কবরস্থানের উন্নয়নের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের তহবিল থেকে টাকা হস্তান্তর করেন। কোন প্রার্থী বা তাঁর পক্ষ থেকে কোন ব্যক্তি নির্বাচনী এলাকার কোন প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে বা গোপনে কোন প্রকার চাঁদা বা অনুদান দিলে তা জাতীয় সংসদ আচরণ বিধিমালা ২০০৮ এর ৩ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন। উক্ত আসনের ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমের এসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে পেয়েছেন র্নিবাচনি অনুসন্ধান কমিটি।
উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা মহিলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ইয়াসমিন চৌধুরি সুমিকে দেয়া নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, নৌকার প্রচারণায় অংশ নিতে গিয়ে মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী নুরন্নাহার আক্তার আলোকে মারধর ও লাঞ্ছিত করেছেন ইয়াসমিন চৌধুরি সুমি এমন অভিযোগ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এমন ঘটনা সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০০৮ এর ৬ (ক) ও ১১ (৭) বিধির লঙ্ঘন।
পাথালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. পারভেজ দেওয়ানকে দেয়া নোটিশে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার স্বতন্ত্র প্রার্তী মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের নির্বাচনী প্রচরণায় পাথালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিন্দুরিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মাদ্রাসা ও কবরস্থানের উন্নয়নের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের তহবিল থেকে টাকা হস্তান্তর করেছেন। এটি আচরণ বিধিমালা ২০০৮ এর ৩ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন। উক্ত আসনের ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমের এসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে পেয়েছে র্নিবাচনি অনুসন্ধান কমিটি।
আওয়ামীলীগ প্রার্থীর কর্মী রকিকে দেয়া নোটিশে বলা হয়েছে, রকিসহ অন্যান্য ব্যক্তিরা স্বতন্ত্র প্রার্থী তালুকদার তৌহিদ জং মুরাদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচার করা আব্দুল হালিমকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়েছেন। গত সোমবার দিবাগত রাতে রকিসহ অন্যান্যরা সাভার পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাতলাপুরের হালিম মার্কেটে আব্দুল হালিমের নিজস্ব কার্যালয়ে হামলা চালায় ও ভাঙচুর করে। বিশ্বজিৎ কর্মকার নামে নিরাপত্তারক্ষী হামলাকারিদের বাঁধা দিলে নিরাপত্তারক্ষীকে নির্বাচনী প্রচারণা না করার জন্য হুমকি দেন। এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে পেয়েছে র্নিবাচনি অনুসন্ধান কমিটি। এমন ঘটনা সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০০৮ এর ১১ (গ) বিধির লঙ্ঘন। একই অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া দেয়া হয়েছে মো. সাইদকে।
আওয়ামীলীগ প্রার্থীর কর্মী টিপুর কারণ দর্শানোর নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, টিপুসহ অন্যান্য ব্যক্তিরা স্বতন্ত্র প্রার্থী তালুকদার মো. তৌহিদ জং ওরফে মুরাদের পক্ষে নির্বাচনি প্রচারে জড়িত আবু সাইদকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়েছেন।
সোমবার রাত ৩টায় তাঁরা ভাগলপুর সিরামিক্স বাজারের দক্ষিণ পাশে আবু সাইদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে তাঁর স্থাপন করা মুরাদ জংয়ের অস্থায়ী নির্বাচনি কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে চেয়ার, টেবিলসহ বিভিন্ন মালামাল ভাংচুর করে। পরে ওই কার্যালয়ের পাশে আবু সাঈদের বাড়িতে হামলা করে।
এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে পেয়েছে র্নিবাচনি অনুসন্ধান কমিটি। এ ধরণের কর্মকান্ড সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০০৮ এর ১১ (গ) বিধির লঙ্ঘন।
এছাড়া নোটিশে বিধিমালা লঙ্ঘনের কারণে কেন নির্বাচন কমিশনে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রেরণ করা হবে না এবং শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে না সেবিষয়ে আগামী ২৬ ডিসেম্বর রকি, মো. সাইদ ও টিপুকে এবং পরদিন ডা: এনামুর রহমান, মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ইয়াসমিন চৌধুরী সুমি ও পারভেজ দেওয়ানকে ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান ও সিনিয়র সহকারী জজ জাকির হোসেনের কার্যালয়ে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি দুইজন প্রার্থীসহ ৭ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন।

 

খবরটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *