সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৪ || ৭:২৫:১৯ অপরাহ্ণ

আশুলিয়ায় ফসলি জমির মাটি ইটভাটায় বিক্রিতে প্রভাবশালী চক্র, প্রশাসন নিরব

স্টাফ রিপোর্টার : সাভারের আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নে তিন ফসলি জমি ও নদীর পারের সরকারি খাসজমির মাটি কেটে গভীর খনন করে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করছে প্রভাবশালী একটি চক্র। এতে করে ঐ এলাকায় আশঙ্কাজনক হারে কমছে কৃষি জমির পরিমাণ এবং সেই সাথে লুট হয়ে যাচ্ছে সরকারী খাস জমির মাটিসহ নদীর মটিও ।

স্থানীয়রা জানায়, এলাকার শত শত বিঘা ফসলি জমিতে ভেকু দিয়ে ২৫ থেকে ৩০ ফুট গভীর খনন করে মাটি বিক্রির মহোৎসব চলছে। দিনরাত বিরতিহীনভাবে সেই মাটি বড় বড় ড্রাম ট্রাকে করে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রয় করছেন চক্রটি।

এই চক্রের কারনে কৃষকরা হারাচ্ছেন তাদের উর্বর ফসলি জমি, অন্যদিকে আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে এক শ্রেণির প্রভাবশালী মাটি ব্যবসায়ীরা। অথচ, শ্রেণিভেদে ঐ এলাকায় প্রায় সকল জমিতেই সারা বছর কোনো না কোনো ধরনের ফসল হয়।

শিমুলিয়ার রাঙ্গামাটি এলাকার বিষখালী নদী ও তার আশপাশের প্রতিটা কৃষিজমিসহ খাস জমির মাটি ভেকু দিয়ে কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করছেন ঐ এলাকার মাটি খেকো ও ভুমিদস্যু সামছুল নামের ব্যাক্তি। তিন ফসলি জমিসহ খাস জমি থেকে গর্ত করে মাটি কেটে গভীর খনন করায় চারপাশের ফসলি জমি চাষাবাদে হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন একাধিক ভূমি মালিক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের নদীর কুল ঘেঁষা বেশ কয়েকটি স্থান থেকে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে ইটভাটায়। এর ফলে একদিকে যেমন ঝুঁকিতে রয়েছে নদীর তীর ঘেষা লোকবসতি অন্যদিকে কমছে ফসলি জমিও। তাদের মাটি কাটতে বাধা দিলে নানান ধরনের ভয়ভীতি দেখায়।

সম্প্রতি আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের রাঙ্গামাটি ও গাজিখাল এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে এসব স্থানের ফসলি জমি থেকে ভেকু দিয়ে মাটি ট্রাকযোগে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়।

অভিযোগ রয়েছে, শিমুলিয়ার ঋষিপাড়া এলাকার লাল মিয়া ওরফে মেমো নামের এক মাটি খেকু প্রায় ২০ ফিট গর্ত করে ফসলি জমির মাটি বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করছেন।

ফসলি জমির মাটি বিক্রির কথা স্বীকার করে লাল মিয়া বলেন, প্রশাসনকে ম্যানেজ করে মাটি বিক্রি করছি এমন কথা আমি কাউকে বলিনি। তবে আমি মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করি এটা সত্য।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, শিমুলিয়ার কোদালটেকি থেকে মাটি কাটছে হাবীবুর রহমান, রণস্থল এলাকার ফেদা বেপারীর ছেলে রসুল ওরফে গেদা বংশি নদীর পাশ থেকে মাটি কাটছে, বাগবাড়ি এলাকা থেকে মাটি কেটে ইট ভাটায় বিক্রি করছে পলাশ। এছাড়াও ফসলি জমির মাটি বিক্রি চক্রের অন্যরা হচ্ছে গাজীবাড়ি মহল্লার আনিস পীরসাব , দীঘিড় পারের রাসেল, রবি, কোহিনুর, গুচ্ছগ্রামের রাসেলসহ অন্যরা।

এদের মধ্যে আনিস মাটি কেটে ইট ভাটায় বিক্রির কথা অকোপটে স্বীকার করে বলেন, আমিতো বেশ কয়েক বছর ধরে ফসলি জমি, নদীর পরের মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছি।

রাঙ্গামাটি এলাকায় বংশী নদীর পাশে ফসলি জমি থেকে ৮ থেকে ১০ ফুট গর্ত করে ভেকুর সাহায্যে মাটি কাটছে স্থানীয় জসিম উদ্দিন মাষ্টার নামের এক ব্যাক্তি। মাটি ট্রাকযোগে নিয়ে যাচ্ছে পাশের ক্লাস ব্রিকস এন্ড সিরামিক্স নামের একটি ইট ভাটায়।
মাটি কাটা শ্রমিকদের সাথে কথা বলতে গেলে তারা জানায়, স্থানীয় জসিম উদ্দিন মাষ্টারের নির্দেশে মাটি কেটে পাশের চায়না ইটভাটায় দেওয়া হয়।

মাটি খেকো চক্রটি এতো ভয়ানক যে তাদের ভয়ে কোন কৃষক কিংবা ভুক্তভোগ কেউ মুখ খুলতে চাচ্ছে না। তারানাকি প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই মাটি বিক্রি করছে।

এ বিষয়ে জানতে সহকারী কমিশনার ভূমি (আশুলিয়া সার্কেল) মো: আশরাফুর রহমানের মুঠফোনে সোমবার বিকালে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

খবরটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *