সেলিম আহমেদ : সাভার উপজেলার বিভিন্ন মহাসড়ক কিংবা ফুট ওভার ব্রিজ যেখানেই চোখ যায় সে সব গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টেই রয়েছে অবৈধ দোকানপাট। ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা এসব অবৈধ দোকানপাট থেকে দৈনিক কয়েক লক্ষ টাকা চাঁদা তুলছে একটি চক্র।
মহাসড়কের দুই পাশে থাকা ফুটপাত ও ওভারব্রিজগুলো পথচারীদের যাতায়াত এবং নিরাপদে রাস্তা পারাপারের জন্য তৈরি করা হলেও, বর্তমানে এগুলো অবৈধ দখলদারদের কবলে পড়েছে। ফুটপাত দখল করে
জুতা, ফল, পোশাক, সবজি, মাছ, মোবাইল সামগ্রীসহ হরেক রকম পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা।
হকারদের দোকান বসানোর কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। ফুটপাত পথচারীদের জন্য নির্ধারিত হলেও তা এখন অবৈধভাবে দখল হয়ে থাকায় মানুষ বাধ্য হয়ে সড়কে হাঁটছেন, ফলে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।
বিশেষ করে অফিস সময় ও ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থেকে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও রোগী পরিবহনকারী যানবাহন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এতে মূল্যবান কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে এবং সামগ্রিক জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার বাজার বাস স্ট্যান্ড, রেডিও কলোনি, গেন্ডা স্ট্যান্ড, উলাইল, হেমায়েতপুর বাস স্ট্যান্ড, আমিনবাজার, নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের পলাশবাড়ী, পল্লীবিদ্যুৎ বাসস্ট্যান্ড, বাইপাইল, নবীনগর ও আশুলিয়া এলাকায় রয়েছে একাধিক চক্র যারা হকারদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে। অন্যদিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত সড়কের উভয়পাশে প্রায় দেড় হাজার দোকান বসিয়ে টাকা আদায় করে করছে একটা চক্র।
সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ফুটপাতের এক ব্যবসায়ী জানান, বিদ্যুৎ বিল ও প্রশাসনকে ম্যানেজের কথা বলে প্রতিদিন দোকানের আকার ও স্থানভেদে ১শ’ থেকে ৫শ’ টাকা চাঁদা দিতে হয়। কেউ চাঁদার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলেই তার দোকান তুলে দেওয়া হয়।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, ফুটপাত দখলকে কেন্দ্র করে একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র সক্রিয় রয়েছে। হকারদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে এবং চাঁদার অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে মারামারি ও বিশৃঙ্খলার ঘটনাও ঘটছে, যা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাভার উপজেলায় মহাসড়কের পাশে দশ হাজারের বেশি ফুটপাতের হকার রয়েছে। ফুটপাত দখল করে দোকান বসানোর কারণে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজটের সেই সঙ্গে পথচারীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র ও হকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসব এলাকার ফুটপাতে দোকান পরিচালনা করছে এমন অন্তত শতাধিক লোক। যারা স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিকল্পিত বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে ফুটপাত ও সড়ক জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হোক।
সাভার হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ শাহজাহান বলেন, হকাররা ফুটপাত দখল করে রাখে আরেকদিকে ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা। ফলে পথচারীদের চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে। অটোরিক্সার বিষয়ে আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত আছে তবে ফুটপাতের হকার কিংবা ফুটপাতে চাঁদাবাজির বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারব না।