1. selimsavar@gmail.com : khobar desk :
সর্বশেষ :
সাভারে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইউপি চেয়ারম্যানের ভাইয়ের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ সাভারে ফামের্সী ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন নামে চাঁদাবাজী ও প্রতারনার ফাঁদ সাভারে ব্যবসায়িক মুখোশের আড়ালে ‘ভয়ংকর’ প্রশান্তের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ সাভারে ফ্লাট না দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে আবাসন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন সাভারে বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, ৩০লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ সউদি আরবসহ যেসব দেশে পালিত হচ্ছে ঈদুল আজহা শিল্পার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত সিকিম, আটকা পড়েছে ১০ বাংলাদেশিও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজট সাভারে এমপি সাইফুলের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা দখলের অভিযোগ

সাভারে এমপি সাইফুলের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা দখলের অভিযোগ

  • সর্বশেষ আপডেট : শনিবার, ১৫ জুন, ২০২৪

অনলাইন ডেস্ক : কোম্পানির মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান দ্বন্দ্বের মধ্যেই আদালত কর্তৃক জারিকৃত ১৪৫ ধারার আদেশ উপেক্ষা করে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানি বেঙ্গল ফাইন সিরামিক্স লিমিটেডের কারখানা দখলের অভিযোগ উঠেছে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত আরেক প্রতিষ্ঠান সি পার্ল বিচ রিসোর্টের মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে। আর এইর দখলে সহযোগীতায় নাম উঠে এসেছে সাভারের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আশুলিয়া থানা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সাইফুল ইসলামের। তিনি সরাসরি দখলের সাথে জড়িত না থাকলেও তার প্রতিনিধিদের মাধ্যমে কাজ সেরেছেন বলে শোনা যাচ্ছে।

গত ২৬ মে সকালে ঢাকার সাভারের ভাগলপুরে অবস্থিত বেঙ্গল ফাইন সিরামিকস লিমিটেড নামের কারখানাটি জোরপূর্বক দখলের ঘটনা ঘটে।

বেঙ্গল ফাইন সিরামিকস লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক অভিজিৎ কুমার রায় বলেন, ওইদিন সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে সি পার্ল গ্রুপের লোকজন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সন্ত্রাসী নিয়ে জোরপূর্বক আমাদের কারখানায় প্রবেশ করে।

এ সময় হামলাকারীরা কারখানা থেকে আমাদের নিরাপত্তা কর্মী, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের বের করে দিয়ে কারখানা ও অফিস ভবনের দখল নেয়। কারখানার সকল সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙ্গে ফেলে। এমনকি কারখানার ভিতরেও ভাংচুর করে। তখন ডেইলি স্টারের সাংবাদিক আকলাকুর রহমান আকাশ হামলার শিকার হোন। আকাশও একটি পক্ষের হয়ে গিয়েছিলেন এমনটাই বলছে অনেকেই।

অভিজিৎ কুমার রায় বলেন, ২০০৭ সালে কোম্পানিটি মোটা অংকের দায় মাথায় নিয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আমার পরিবার এক এমওইউ চুক্তির মাধ্যমে কোম্পানির ২৪.২৯ শতাংশ স্পন্সর শেয়ার ক্রয় করে এজিএম এর মাধ্যমে কোম্পানির পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। বিভিন্ন জটিলতা শেষ করে ২০১৯ সালে কারখানাটি পুনরায় সচল করা হয়।

পরবর্তীতে আগের মালিকপক্ষ চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে আবারও কোম্পানির মালিকানা দাবি করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করে। পরে এ বিষয়ে উচ্চ আদালত আমার বাবা বিশ্বজিৎ কুমার রায়কেই কারখানা পরিচালনার নির্দেশ দেয়। কিন্তু ২০২৩ সালে এসে আগের মালিকপক্ষ আমাদের কাছে বিক্রিত শেয়ার পুনরায় সি পার্ল গ্রুপের মালিকদের কাছে বিক্রি করে দেয়। বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি সি পার্ল গ্রুপ কয়েক দফায় কারখানাটি দখলের চেষ্টা করলে আমরা আদালত থেকে এ বিষয়ে একটি ১৪৫ ধারার আদেশ নিয়ে আসি, যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

আদালতের সেই আদেশ উপেক্ষা করেই প্রকাশ্য দিবালোকে এভাবে রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাব খাটিয়ে কারখানাটি দখল করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এ সময় পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে অভিজিৎ কুমার রায় বলেন, সাভার মডেল থানার কাছে আদালতের ১৪৫ ধারার আদেশের কপি থাকা সত্ত্বেও পুলিশ নিরব ভূমিকা পালন করেছে। থানা থেকে মাত্র কয়েকশো গজ দূরে এই কারখানা। সকালে আমরা ৯৯৯ এর মাধ্যমে পুলিশকে দখলের এই বিষয়টি অবগত করলে পুলিশ যদিও কারখানায় এসেছে, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তারা বলছেন, আমরা লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

গত ৫মে কারখানাটির মালিকানার জটিলতা নিয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সংসদ সদস্য মির্জা আজমের কার্যালয়ে সভা হয়েছিল বলে জানান অভিজিৎ কুমার রায়। তিনি বলেন, ৫ মে সংসদ ভবনে সংসদ সদস্য মির্জা আজমের কার্যালয়ে সাভারের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, আগের মালিকের মেয়ে ফারজানা রুবাইয়েত খান ও সি পার্ল গ্রুপের তিনজনকে নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন। সবাইকে তিনি জানিয়েছিলেন, আদালতের নির্দেশনা মেনে নথিপত্রের আলোকে যে সিদ্ধান্ত হবে, সেটি তিনি মেনে নেবেন। কিন্তুতাঁরা জোর করে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কারখানা দখল করেন।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সি পার্ল গ্রুপ কর্তৃপক্ষের কাউকেই পাওয়া যায়নি।

তবে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহজামান বলেন, ওই দিন আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কোনো বিশৃঙ্খলা পাইনি। মূল মালিক যে কারা, তা আমরা এখনো জানিনা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক পেয়েছি। কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সরেজমিনে কারখানাটির অভ্যন্তরে অন্তত শতাধিক বহিরাগত লোকজন। এদের কয়েকজনের সাথে কথা বললে তারা নিজেদের স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল হালিমের অনুসারী বলে দাবি করেন। আব্দুল হালিম পৌর আওয়ামীলীগের সহসভাপতি।

এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামের নাম ব্যবহার করে পরিবহনে চাঁদাবাজী, মুরগী হাটে চাঁদাবাজী, ফুটপাতে চাঁদাবীর অশংখ্য অভিযোগ রয়েছে রয়েছে তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে।

ঝুট ব্যবসা দখলে নেয়ার চেষ্টা : গত বুধবার সকালে আশুলিয়ার নয়াপাড়া এলাকার ডেকো গ্রুপের আগামী এ্যাপারেলন্স লিমিটেড কারখানার ঝুট ব্যবসা দখলে নিতে ব্যর্থ হয়ে কারখানার ভ্যানসহ তেলের ড্রাম ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে একদল মুখোশধারী যুবক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারখানা কতৃপক্ষ জানায়, বেশ কিছু দিন ধরে ঢাকা-১৯ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামের নাম ব্যবহার করে আগামী এ্যাপারেলন্স লিমিটেড কারখানার ঝুট ব্যবসা দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন স্থানীয় যুবক শাহিন, মানিক, সোহেল, ঝন্টু ও হিরুসহ কয়েকজন। পরে ঝুট ব্যবসা দখলে নিতে ব্যর্থ হয়ে সকালে কারখানায় প্রবেশ করার সময় একটি ভ্যানসহ তেলের ড্রাম ছিনতাই করেন তারা। এসময় তেল ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় তারা ভ্যান চালককে মারধরও করেন। পরে কারখানা কতৃপক্ষ আশুলিয়া পুলিশ ফাঁড়িকে খবর দিলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপরাধীরা তেলের ভ্যান রেখে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ চলে যাওয়ার পরে আবারও তারা কারখানার বাহিরে ইন্ডিয়ান বায়ার চেতনকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এঘটনায় ওই বায়ারসহ কারখানা কতৃপক্ষের মাঝে চরম আতঙ্ক দেখা দেয়।

এবিষয়ে আশুলিয়া থানার এসআই আরাফাত বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্প্রতি সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামের ক্যাডার বাহিনীর সদস্য আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের জিরানী এলাকার আলফা ক্লোথিং, ট্রান্স এশিয়া, গোয়াইলবাড়ী ম্যাশিনপাড় এলাকার এপারেলস টুডে কারখানার ঝুট ব্যবসা ইব্রাহিম হোসেন ও ইউনুস পালোয়ানের নেতৃত্বে ও বাড়ইপাড়া এলাকার তানজিলা কারখানার ব্যবসা দখলের নেয়ার চেষ্টা করে শামন মুন্সির নেতৃত্বে।
সাভার সদর ইউনিয়নের কলমা এলাকার দুটি ফ্যাক্টরীর ঝুট ব্যবসা স্থানীয় সংসদ সদস্যের নাম ব্যবহার করে দখলে নেয়ারও অভিযোগ উঠেছে এমপির লোকজনের বিরুদ্ধে।

জমি দখলের চেষ্টা, ভাংচুর : সাভারের রাজাশন এলাকায় স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামের নাম ব্যবহার করে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার ঘনিষ্ট সহচর সাভার সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারমান এডভোকেট আব্দুল আউয়াল ও তার ভাই সিদ্দিকুর রহমান গংদের বিরুদ্ধে। গত ২৬মে রাজাশন এলাকায় আব্দুল মান্নানের মালিকানাধীন ১একর ৪৩ শতাংশ জমি দখলে নেয়ার জন্য দলবল নিয়ে সীমানা প্রাচির ভাংচুর করে। তখন দখলের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে আর দখলে নিতে পারেনি তারা।

এবিষয়ে এডভোকেট আব্দুল আউয়াল বলেন, আমি এমপি সাহের নাম ব্যবহার করে কোন জমি দখল করতে যায়নি। ওই জমি পাওয়ার মূলে আমরা মালিক তাই আমাদের জমি আমরা দখল করতে গিয়েছি।

চেয়ারম্যান থাকাকালীনও বেতনভূক্ত ক্যাডার বাহিনী ছিল সাইফুলের : আশুলিয়ার ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যা, ছিনতাই, চাঁদা আদায়, মাদক ব্যবসায় জড়িত চিহ্নিত ৩০ থেকে ৩৫ জন সন্ত্রাসী নিয়ে একটি বাহিনী গঠনের অভিযোগ উঠেছিল। তখন বভিন্ন সাংবাদ মাধ্যমের শিরোনামও হয়েছিলেন তিনি। তখন প্রতি মাসে ১০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন দিয়ে ক্যাডার পোষতেন তিনি। বেতন ছাড়া চেয়ারম্যানের বিভিন্ন অবৈধ কাজ করে দেওয়ার বিনিময়ে সুবিধা নিতেন অনেকেই। ইউপি চেয়ারম্যান থাকাকালীন সাইফুল ইসলাম এই বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে মহাসড়কে চলাচলরত গণপরিবহনে চাঁদা আদায়, জমি দখল, পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসা দখল, ডিশ ব্যবসা দখল, সরকারি খালের জমি দখল করে বিক্রি করে দেওয়া ও চাঁদাবাজিসহ সবধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাতেন। তখন প্রতিমাসের প্রথম সপ্তাহে সন্ধ্যার দিকে পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার লাবনী রেস্টুরেন্টে বসে এই ক্যাডার বাহিনীর সদস্যদের মাসিক বেতন দিতেন তিনি।

২০১৬ সালে ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সাইফুল ইসলাম চেয়ারম্যান হওয়ার জমি দখল ও পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসা দখলের কাজ করে প্রতিমাসে টাকা বেতন নিত মেন একজনের সাথে কথাহয় এই প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, তখন চেয়ারম্যানের প্রতিটি মিশনেই দেশীয় অস্ত্রসহ বিদেশি পিস্তল ব্যবহার করা হতো। পলাশবাড়ি এলাকায় ৯০ শতাংশের একটি জমি দখলের সময়ও তার সঙ্গে ছিলাম। পরে ব্যক্তিগত কারণে সরে আসি।

এ বিষয়ে সাভারের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ও আশুলিয়া থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, যে অভিযোগ করা হয়েছে কারখানা দখলের বিষয়ে সেটা সম্পূর্ণ ভূয়া। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তবে বেশ কিছুদিন আগে মির্জা আজম ভাইয়ের (আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক) অফিসে একটি মিটিং হয়েছিল। সে মিটিংটিতে যে কারখানাটি চালায় তিনিই আমাকে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে আমরা দুই পক্ষের কাগজপত্র দেখেছি এবং কথা শুনেছি। আমি এই পর্যন্তই জানি। এর পর আর আমি কিছু জানি না।

 

সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব।

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন :